previous arrow
next arrow
Slider

সার্ভে অব ভাস্কুলার ফ্লোরা অব চিটাগাং এন্ড দ্যা চিটাগাং হিল ট্রাক্টস্

বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও উদ্ভিদ বৈচিত্রে ইহা অত্যান্ত সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ যদিও উদ্ভিদ সম্পদের একটি বৃহৎ ভান্ডার, তথাপিও দেশের সর্বত্র উক্ত সম্পদ সমভাবে বিস্তৃত নয়। উদ্ভিদ সম্পদের বেশীর ভাগই বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনা জেলায় অবস্থিত। গত শতকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা যেমন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি বিপরীত ভাবে উদ্ভিদ সম্পদও অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু এদেশের উদ্ভিদ প্রজাতি সম্পর্কে জানতে হলে আজও আমাদেরকে শত বছরেরও অধিক পুরাতন জে. ডি. হুকারের (১৮৭২-১৮৯৭) “ফ্লোরা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া (Flora of British India)” এবং ডেভিড প্রেইনের (১৯০৩) “বেঙ্গল প্ল্যান্টস (Bengal Plants)” এর উপর নির্ভর করতে হয়। সিবিডি (Convention on Biological Diversity) সাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ২০১০ সালের মধ্যে তার জীব সম্পদের ( Biological resource) ঘোষণা দেয়ার কথা। এ লক্ষ্যে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ সাময়িক সময়ে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন তথ্যসুত্র অবলম্বনে “এনসাইক্লোপেডিয়া অব ফ্লোরা এন্ড ফনা অব বাংলাদেশ” প্রকাশ করেছে। যদিও উক্ত প্রকাশনাটি একটি চমৎকার সংকলন তথাপিও উহাতে দেশে বিরাজমান উদ্ভিদ প্রজাতি সমূহের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন ঘটেনি। সেজন্য উক্ত প্রকাশনাটি উদ্ভিদ সংরক্ষণবিদ, ফরেষ্টার, অর্থনীতিবিদ, ফামাসিস্ট, কৃষিবিদ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীদের কাঙ্খিত চাহিদা পূরণ করতে পারছেনা। বর্তমানে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র জনসংখ্যার চাপে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক হুমকির সস্মুখিন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের উদ্ভিদ জরীপের তেমন কোন উদ্যোগ এযাবত নেয়া হয়নি। সুতরাং দেশের উদ্ভিদ কৌলি সম্পদের (Plant Genetic Resources) উন্নয়ন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ সংরক্ষণের জন্য সমগ্র দেশব্যাপি উদ্ভিদ জরীপ কাজ পরিচালনা করা অত্যাবশ্যক। 

বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রান্তিয় রেইন ফরেষ্টের অবস্থান। যেখানে বাসকরে দেশের বেশীর ভাগ উপজাতীয় জনগোষ্ঠি যাদের জীবন যাত্রা নির্ভর করে ঐ এলাকার জীব বৈচিত্রের উপর। মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে উক্ত এলাকার উদ্ভিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল প্রতিনিয়ত ধ্বংস অথবা পরিবর্তন হচ্ছে। যার ফলে ইতোমধ্যে উক্ত অঞ্চলের অধিকাংশ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অনেক উদ্ভিদ প্রজাতিই বিলুপ্তপ্রায়/ সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। ষাটের দশকেও উক্ত অঞ্চলের বেশীর ভাগ স্থান জুড়ে ছিল জীবজন্তুপূর্ণ ঘণ বনাঞ্চল, অথচ বর্তমানে সেখানে দেখা যায় কেবলমাত্র ছোট উদ্ভিদ সম্বলিত ঝোপঝাড় এবং বিস্তৃন বিরান ভুমি। চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গোলযোগপূর্ণ পরিস্থতির কারণে সেখানকার জীব বৈচিত্রের উপর এযাবত খুবই কম গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কলকাতা হাররেরিয়ামে সংরক্ষিত উক্ত অঞ্চলের উদ্ভিদ নমুনার উপর ভিত্তিকরে ১৯২৫ সালে আর. এল. হেইনিগ (R. L. Heinig) চিটাগাং কালেক্টোরেট এন্ড হিল ট্রাক্টস্ এর উদ্ভিদের একটি তালিকার প্রকাশ করেন (যাহা প্রায় শত বছরের পুরনো)। ফ্লোরিষ্টিক দৃষ্টিকোন থেকে সেটি একটি অসর্ম্পূণ কাজ এবং উক্ত তালিকায় অর্ন্তভ‚ক্ত অনেক উদ্ভিদের নামই ইতোমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে। পাকিস্তান শাসনামল এবং বাংলাদেশ স্ৱাধীনের পরেও উক্ত এলাকায় কোন পূর্ণাংগ ফ্লোরিষ্টিক সার্ভে হয়নি। কোন অঞ্চলে কি ধরণের গাছপালা জন্মে তা জানার জন্য ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ জরীপ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া কোন স্থানের উদ্ভিদ কৌলি সম্পদের পরিমান নির্ধারণ, কার্যকরি বন ব্যবস্থাপনা, বিলুপ্তপ্রায়/ সংকটাপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি সনাক্তকরণ, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকান্ড এবং মেধাসত্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীব বৈচিত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নির্ণয়ে উদ্ভিদ প্রজাতি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের জন্য প্রতি ১০-২০ বছর পরপর উদ্ভিদ জরীপ পরিচালনা করা অতীব প্রয়োজন। অথচ রুঢ় বাস্তবতা হচ্ছে উক্ত এলাকায় বিগত একশত বছরেও কোন উদ্ভিদ জরীপ কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। তাই সমগ্র দেশের জীববৈচিত্র্যের জরীপের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘সার্ভে অব ভাস্কুলার ফ্লোরা অব চিটাগাং এন্ড দ্যা চিটাগাং হিল ট্রাক্টস্’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণকরা হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য: বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতি সমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান, ফ্লোরিস্টিক দলিল রচনা এবং নমুনা সংরক্ষণ।

বিস্তারিত উদ্দেশ্যসমূহ:

● প্রকল্প এলাকায় ফ্লোরিস্টিক সার্ভে পরিচালনা ও ভাউচার নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে সকল ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতির অনুসন্ধান এবং ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের উদ্ভিদ নমুনার সংগ্রহ সমৃদ্ধ করা;
● ভবিষ্যতে উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিলুপ্তপ্রায়সহ সকল ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতি সনাক্ত করা;
● উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ স¤পর্কিত মৌলিক ফ্লোরিস্টিক তথ্য উৎপন্ন করা, উহার সঠিক ব্যাবস্থাপনা ও ভোক্তা সাধারণকে অবিহিত করা, এবং
● প্রকল্প এলাকায় প্রাপ্ত উদ্ভিদরাজির উপর একটি সচিত্র পুস্তক (দুই প্রস্তে) প্রকাশ করা।

কাঙ্খিত ফলাফল:
১। প্রকল্প এলাকায় প্রাপ্ত উদ্ভিদরাজির উপর একটি সচিত্র পুস্তক (দুই প্রস্তে);
২। সকল ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতির ভাউচার নমুনা;
৩। প্রকল্প এলাকার বিলুপ্তপ্রায় ভাস্কুলার উদ্ভিদসহ সকল উদ্ভিদ প্রজাতির তালিকা;
৪। উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ সম্পর্কিত মৌলিক ফ্লোরিস্টিক তথ্য; এবং
৫। একটি পুর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জরিপ প্রতিবেদন।

SURVEY OF VASCULAR FLORA OF CHITTAGONG AND THE CHITTAGONG HILL TRACTS

Bangladesh is a small country but very rich in plant diversity. However, those resources are not equally distributed throughout the country. The most of her plant resources are confined to the greater district of Chittagong & the Chittagong Hill Tracts, Sylhet, and Khulna (Sunderban). However, to know the plant species those occur in the country ones has to rely on the Flora of British India by J. D. Hooker and Bengal Plants by David Prain. Among those two great works; ‘Flora of British India’ covers the plant species of Indian subcontinent and Myanmar, and ‘Bengal Plants’ covers plant species of present Bangladesh and some parts of India. Both of these two works are more than hundred years old. Within last one hundred of years, huge and significant floristic changes have been occurred in Bangladesh. Within the last century, human population of the country has increased in many folds and plant resources have decreased reversibly. Presently, the biodiversity of the country is under threats due to human population pressure but also due to adverse effects of climate change. However, no attempt has been under taken for a comprehensive flora survey of the country so far. The Asiatic Society of Bangladesh published an excellent compilation work on the flora and fauna of Bangladesh entitled 'Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh' in 2010. However, that publication does not reflect the present status of the plant species occurring in the country. It can not serve the pressing needs of conservationists, foresters, economists, pharmacists, agriculturists and other natural scientists. Hence, a thorough floristic survey of the country is inevitable for the development and sustainable management of plant genetic resources as well as for conservation of threatened plants of the country.

The greater districts of Chittagong (Chittagong and Cox’s Bazar districts) and the Chittagong Hill Tracts (Rangamati, Khagrachari and Bandarban districts) possess the largest tropical rain forest of the country. Majority of the tribal communities of the country inhabit in the area and depend on the biodiversity (plants and animals) for their livelihoods. Like other area of the country, destruction and alteration of natural habitats in the Hill districts is a very common phenomenon. As a result many plant species have become threatened and endangered. However, little attention has so far been given by the natural scientists on the natural resources as well as biodiversity of the greater districts of Chittagong and the Chittagong Hill Tracts due to turmoil condition. The only regional flora to cover the project area is that of ‘Lists of Plants of Chittagong Collectorate and Hill Tracts’ by R. L. Heinig (1925) which is incomplete and out dated (about hundred years old). He recorded a total of 1555 angiosperm species under 777 genera belongs to 132 families from Chittagong Collectorate and Hill Tracts area. Basically he did a compilation work based on Flora of British India by Hooker, Indian Trees by D. Brandis, Bengal Plants by David Prain and Flora of British Burma by S. Kurz and also specimen preserved at Central National Herbarium, Calcutta. Flora survey is essential to know the plant species occurring in a particular area. It is also necessary to estimate plant genetic resources, to determine threatened/ endangered plant species of the country. Flora survey is also vital for assessment of the adverse effects of climate change on biodiversity. Repeated floristic survey at few years (10 to 20 years) intervals can help to understand biodiversity changing pattern. Moreover, the updated knowledge of biodiversity is essential for any effective forest management and conservation program as well as claiming Intellectual Property Rights (IPR). Hence, a complete floristic survey of the country is urgently needed. Hence the 'Survey of vascular flora of Chittagong and the Chittagong Hill Tracts' project has been under taken in the highest biodiversity rich area (Chittagong and the Chittagong Hill Tracts) of the country as a part of complete floristic survey of the country.

Objective of the Project: Exploration, documentation and preservation of vascular plant species of Chittagong and the Chittagong Hill Tracts.

Specification of the objectives of the project are:
(i) Conducting floristic survey and collecting plant samples in the area for exploring vascular plant species (VPS) and enriching the voucher specimen collections of Bangladesh National Herbarium (BNH)
(ii) Identifying VPS including threatened plant species of the project area for their future conservation and sustainable management
(iii) Generating basic floristic information about plant genetic resources of the project area and to manage and communicate this to all stakeholders of BNH.
(iv) Documenting all floristic information on the available vascular plant species for publishing a pictorial flora (in two volumes) of the area

Expected Outputs:

(i) A floristic book (called as ‘Pictorial Flora’) in two volumes for the area
(ii) Voucher specimens of all vascular plant species (VPS) occurring in the area
(iii) List of VPS including threatened plant species of the area
(iv) Basic floristic information generation on the plant genetic resources of the area
(v) A complete floristic survey report.